ফণী’র আতঙ্কের মধ্যেই ভূমিকম্প, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম!

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় ফণী ইতোমধ্যে ওড়িশা, গোপালপুর ও পুরী উপকূলে সকাল সাড়ে ৯টার থেকেই প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে। জানা গেছে, ফণী’র আতঙ্কের মধ্যে সিমলা-সহ হিমাচলের বিস্তৃণ এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভব করা গেছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.২।

শুক্রবার (৩ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মান্ডি জেলার বেশ কিছু জায়াগায় মৃদু কম্পন অনুভব করা গেছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। এমন জোড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও, ভূমিকম্পের জেরে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, গোপালপুর ও পুরীতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফণী’র প্রভাব পড়ার কথা থাকলেও তা পুর্বাভাসের আগেই সকাল ৮টার দিকে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। এর পর সকাল নটার পরে ফণি আছড়ে পড়ে পুরীতে। ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার। ঝড়ের গতি দ্রুত বেড়েই চলছে। এই গতি সর্বোচ্চ ২১০ কিলোমিটার হতে পারে।

এদিকে ফণীর আঘাতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওড়িশার পুরী, গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। পুরীর জগন্নাথ মন্দির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। যে পথে ফণী এগিয়ে যাচ্ছে সে পথে ওড়িশার ১০ হাজার গ্রাম এবং ৫২টি শহর পড়বে।

ফণীর যাত্রাপথ থেকে ১০ লাখ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে ওড়িশা সরকার। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ৪ হাজার ৮৫২ সাইক্লোন এবং বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। আপাতত, ওই ১০ লাখ মানুষের ঠাঁই হচ্ছে এই আশ্রয়কেন্দ্রই।

তবে শক্তিশালী এ ঝড়টিকে কেন্দ্র করে কন্ট্রোল রুম খুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। ফণী নিয়ে খবরাখবর বা যে কোনও সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩৮-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে মোট ১৪৭টি ট্রেন।

৩৪টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল, ত্রাণ সামগ্রীসহ চারটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশাখাপত্তনম এবং চেন্নাইয়ে। বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, পারাদ্বীপ, গোপালপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া, ফ্রেজারগঞ্জ এবং কলকাতায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন থাকছে।

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হয়েছে ফণী। এর আগে ১৯৯৯ সালে এই মাত্রায় পৌঁছানো সুপার সাইক্লোনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বিপুল।

অপর দিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দিকে প্রবল গতিতে এগিয়ে চলেছে। শুক্রবার (৩ মে) সকাল সাড়ে নয়টার আগে ২০০ কিলোমিটার বেগে ওড়িশার গোপালপুর এবং পুরীতে আঘাত হানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আর আঘাতের ফলে পুরীতে ভূমিধসের ঘটনার ৬ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বিধ্বস্ত বেঁড়িবাঁধ এলাকা থেকে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এতে চারিপাড়া, পশরবুনিয়াসহ পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফনী ধেয়ে আসার নমূনা দেখে আতঙ্ক বিরাজ করছে কলাপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি ও বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, খাবার স্যালাইন, শুকনো খাবার, মেডিক্যাল টিম, সিপিপিসহ ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মী এবং পুলিশ বাহিনীসহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত রয়েছেন উদ্ধার কাজের জন্য। দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিপিপি’র মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্রতীরবর্তী এবং বেঁড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার এবং সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সাগর ও নদী থেকে মাছ ধরার সকল প্রকার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

ফণীর আঘাতে সবচেয়ে বেশি আক্রন্ত হতে পারে এমন এলাকা গুলো হল- যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, ফরিদপুর, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকা।

বিডি২৪লাইভ

Please follow and like us: